মোঃ জাহিদুল হক জাহিদ সিরাজগঞ্জ:
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কেউ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, কেউ ৯টা ২৫ মিনিটে, আবার কেউ ৯টা ৩০ মিনিটে অফিসে প্রবেশ করছেন। এছাড়াও পৌর সমাজকর্মী আইরিন আক্তার ও কম্পিউটার প্রশিক্ষক জামিল আহমেদ সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন এবং বলেন আমার অফিস টাইম সকাল দশটার পর। এ সময় সহকারী কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহনা ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জেলা প্রশাসকের একটি কর্মসূচিতে রয়েছেন। তবে পরে মুঠোফোনে আলাউদ্দিন জানান, তিনি অন্য একটি সরকারি অফিসে ছিলেন। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি সেদিন বাসা থেকেই দেরিতে বের হন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খান ছুটিতে থাকায় সহকারী পরিচালক খন্দকার গোলাম সরোয়ার বলেন, “অনেক কর্মকর্তা দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। তাই পাঁচ দশ মিনিট দেরি হতে পারে।” উপ-পরিচালকের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি থাকলে তিনি বাসা থেকে সরাসরি সেখানে যোগ দেন, তবে অধিকাংশ দিনই পনে নয়টার টায় অফিসে উপস্থিত হন।
অন্যদিকে মুঠোফোনে উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খান দাবি করেন, তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত থাকেন এবং তিনিও অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে আসেন। অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
সরেজমিনে দেখা চিত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।।
Leave a Reply